ডিসির অনুরোধে মেট্রো রেলের আদলে নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালু

যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে রেলপথের যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেট্রোরেলের আদলে অত্যাধুনিক কমিউটার ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলায় যোগ দিয়েই স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় কথা দিয়েছিলেন নতুন কমিউটার সার্ভিস চালু করবেন ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা থেকে। বুধবার তার দেয়া প্রতিশ্রুতি মতো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ- ঢাকা রুটে রেলপথে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্য মেট্রোরেলের আদলে অত্যাধুনিক কমিউটার ট্রেন সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিয়মিত চলাচল শুরু করবে এই কমিউটার ট্রেন। অত্যাধুনিক এই ট্রেনটি তৈরি করা হয়েছে মেট্রোরেলের আদলে। এর ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সাধারণ ট্রেনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী বহন করতে সক্ষম এই ট্রেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই ট্রেন আগে আটটি কোচে চলতো। এখন এখানে এগারেটি কোচ থাকবে। আগে এর সিটিং ক্যাপাসিটি ছিল ৩৮০ জন, আর এখন ৫৯০ জন হয়েছে। এটি মেট্রোরেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় সমান সংখ্যক যাত্রী দাঁড়িয়েও যেতে পারবে। যেন বেশি সংখ্যক মানুষ আমরা বহন করতে পারি সে চিন্তা থেকে এটা করা হয়েছে। ইন্টারবগি কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যা আগে ছিল না।
নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ট্রেনের শিডিউল অনুযায়ী কমিউটার ট্রেনটি চলবে। রেলওয়ের স্বল্প দূরত্বের কমিউটার সার্ভিসে অধিক যাত্রী পরিবহনের জন্য পুরাতন কোচ সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে মেট্রোরেলের আদলে ১১টি কোচ তৈরি করা হয়েছে। ডিসি জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, পুরাতন কোচগুলো মেরামত করে মেট্রোরেলের আদলে রূপান্তর করা হয়েছে। আগের আসনগুলো সরিয়ে দুপাশে নতুন আসন বসানো হয়েছে। কোচের ফ্লোরে ম্যাট বসানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় লাইট ও ফ্যান সংযুক্ত করা হয়েছে। দাঁড়িয়ে যাত্রার সুবিধায় স্ট্যান্ড ও পিলার স্থাপন করা হয়েছে।" বেশি সংখ্যক মানুষ বহন করতে পারবে কোচগুলো। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চাহিদামতো কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আগে আট মাসের সমস্যা সাত দিনেই সমাধান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম।
জাহিদুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পরের দিনই স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করেন জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। একজন সাংবাদিক যাত্রীর চাপ থাকায় আরেকটি কমিউটার ট্রেনের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন একজন সাংবাদিক। রেল সচিবকে বিষয়টি জানিয়ে তার হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন জেলা প্রশাসক। নাছোরবান্দা জেলা প্রশাসকের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সারা দেন রেল সচিব। নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য একটা নতুন কমিউটার ট্রেনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস মেলে। আরেকজন সাংবাদিক এক সভায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় অধিকাংশ রেল সিগনালে স্থায়ী গেট না থাকায় যে কোন মুহুর্তেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এটি যাত্রী এবং রেলওয়ের দায়িত্বরত গেটম্যান উভয়ের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ণ। অভিযোগ শুনেই ডিসি সরেজমিনে খোঁজ খবর নিতে তার এক স্টাফকে পাঠান। তাকে ছবি ও ভিডিও করে আনার নির্দেশ দেন। ছবি ও ভিডিও দেখে অভিযোগের সত্যতা পান ডিসি জাহিদুল। তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলেন রেল কর্মকর্তাদের সাথে। তাদের অনুরোধ করেন দ্রুত নারায়ণগঞ্জ জেলার সব রেল ক্রসিংয়ে দ্রুত লোহার স্থায়ী গেট স্থাপন করতে। ডিসির নির্দেশ পেয়ে অবশেষে ঘুম ভাংগে রেল কর্মকর্তাদের সাথে। দ্রুতই লোহার গেট নির্মাণ কাজ শেষ হয়।