
ফাইল ছবি
# যানজট নিরসনে আমাদেরও দায়িত্ব থেকে কাজ করেছি : সোহেল
ইতিহাস ঐতিহ্যের জেলা নারায়ণগঞ্জ। ৬শ’৮৩ দশমিক ১৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জেলাটিতে বসবাস করে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ। ইতিহাস ও ঐতিহ্য ছাড়াও বাংলার সম্ভাবনাময়ী পোশাক শিল্পের অধিকাংশই উৎপাদন হয় এখানে। তবে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘেঁষা নারায়ণগঞ্জ শহরের নাগরিক সেবার মূল বাঁধা যানজট। শহরের প্রাণ চাষাড়া নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এছাড়াও চাষাড়া থেকে পঞ্চবটি সড়কটির অবস্থাও একেবারেই নাজেহাল। একে তো ভাঙা চূড়া রাস্তা সেই সাথে বৈধ অবৈধ পরিবহন, অটোরিক্সার লম্বা লাইন। এখানে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে।
এদিকে শহরের যানজটের মূল কারণগুলো উল্লেখ করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এম এ করিম বলেন, যানজটের প্রধান কারণ হলো ট্রাফিক আইন না মানা। কমবেশি সকলের মধ্যে আইন ভাঙার একটি প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়াও রিক্সা, অটোরিক্সা, ইজিবাইকের আধিক্য, যত্রতত্র যাত্রী ওঠা নামা, হকারদের ফুটপাত দখল, অনভিজ্ঞ গাড়ি চালক, অবৈধ পার্কিং, সড়ক সংস্কারের অনির্দিষ্ট সময় লেগে যাওয়া এসব কারণে যানজট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। চলমান রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও বিকিএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের যৌথ উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছে যানজট নিরসনে।
মাঠ পর্যায় ঠিক কতটুকু কাজ এগোচ্ছে তা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু বলেন, বাংলাদেশের ছোট একটি জেলা নারায়ণগঞ্জ। এই ছোট জেলার বৃহৎ একটি সমস্যা যানজট। সারাবছর জুড়ে লেগে থাকা যানজট রমজান মাসে বেড়ে যায় অনেকগুন। রমজান মাসে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার জন্য ১শ’৮০ জন সদস্যের কমিউনিটি পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি জানান, দিনের দুইটি সময়ে দুইটি ভাগে সদস্যগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা, অটোরিক্সা চলাচলের নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ ও প্রাইভেট পরিবহন কমিয়ে আনা সহ সংস্কার ও নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে যানজট কমে যাবে বলে আমি মনে করি।
জানাযায়, প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছিল ব্রিটিশ আমল থেকেই। হাজার বছরের ব্যবসার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ অবদান অতীতে ছিল, বর্তমানেও রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬শ’ কোটি টাকা এবং তা আদায় হয়েছে ১৬শ’ কোটি টাকা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলায় পোশাক কারখানা রয়েছে প্রায় ৫০০ শতের অধিক। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লার বিসিক, সিদ্ধিরগঞ্জ ইপিজেটে প্রায় ৩শ’৫০ টি রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। অথচ এই জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পয়েন্টগুলোতে পরিবহন গুলোকে আটকে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। এতে করে প্রস্তুতকৃত পোশাক সময় অনুযায়ী রপ্তানি করতে বিপাকে পড়তে হয়।
অন্য দিকে যানজটের কারণে এই শহরের মানুষজন আর্থিক, মানসিক, শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কেননা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেমনিভাবে কোনো কাজে দেরি হলে তা মানসিক পীড়া দেয়। একইভাবে যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের আশংকা বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। এছাড়াও নষ্ট হয় বাড়তি সময়।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার মেনুফ্যাকচারার এন্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পুরো রমজান মাস নারায়ণগঞ্জবাসীদের স্বস্তি দেয়ার জন্য বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আর্থিক সহায়তা করে যাচ্ছে। কিন্তু যানজট নিরসনে এটা কোন দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না। তবে আমাদের মানুষের মাঝে নিয়ম অমান্য করার প্রবণতা খুব বেশি। যানজট নিরসনে প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব রয়েছে ঠিক তেমনি আমাদের সকলের দায়িত্ব আছে। মনে রাখতে হবে দেশটি আমাদের তাই এদেশের যে কোনো সমস্যা সমাধানে আমাদের একনিষ্ঠভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সকলে যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে ট্রাফিক আইন মেনে চলি তাহলে অবশ্যই খুব দ্রুত যানজট নিরসন করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। আমাদের সচেতনতাই দিতে পারে আগামী প্রজন্মকে একটি বাসযোগ্য নগরী। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী উদ্যোগের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে যানজট মুক্ত করতে হবে। আর এজন্য পয়োজন দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। সেই সাথে সকলের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা।