Logo
Logo
×

রাজনীতি

স্বাধীনতার মাসেও দেখা মেলেনি আ.লীগের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম

স্বাধীনতার মাসেও দেখা মেলেনি আ.লীগের

স্বাধীনতা দিবসেও নারায়ণগঞ্জে দেখা যায়নি আওয়ামী ভক্ত নেতাদের

Swapno

বিগত ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের চলাচলে মুখরিত ছিল। এমনকি শেখ হাসিনা পদত্যাগের দিনও জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পার্টি অফিসের কার্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে অবস্থান নেন। তাছাড়া বিভিন্ন দিবস গুলোতেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাকজমক ভাবে পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছরের ৫ আগষ্ট দুপরের পর যখন জানাজানি হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে, তখন সারাদেশের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও পালিয়েছে।



সেই থেকে এখনো পর্যন্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপি থেকে শুরু করে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা নেই। অথচ এর মাঝে ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী অতিবাহিত হয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতার মাসে ১৭ মার্চ  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  জন্মবার্ষিকীতেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাদের কারো কোন দেখা মিলে নাই। অথচ এই দিনে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বিগত ১৬ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে নানা অনুষ্ঠান করে উন্নয়ন উন্নয়ন প্রচারনা চালাতেন। অথচ গত সাড়ে সাত মাস হলো আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এখন পালিয়ে রয়েছে। তাদের কারো দেখা মিলে নাই।



আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে সাবেক এমপি শামীম ওসমান সহ তার গুন্ডাপান্ডারা বড় বড় কথা বলে বেড়াতেন। কিন্তু দলের বিপদের সময় তারাই আগে পালিয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অফিসটি ছিনতাকারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর মুরালের ঢালাই করা অংশে এখন শহরের টোকাইদের বিশ্রাম আড্ডা খানায় পরিনত হয়েছে। সেখানে বসে মাদক সেবনও করেন ছিনতাইকারীরা। এছাড়া গত বছরের ৫ আগষ্টের পর থেকে নেতাকর্মীদেরও কোন পদচারনা নেই। আওয়ামী লীগের অফিসকে রক্ষা করার জন্য তাদের দলীয় কোন নেতাকর্মী এগিয়ে আসে নাই। এতে করে আওয়ামী লীগের করুণ দৈন্যদশা পাওয়া যায়।  



খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সহিসংতার রূপ নিলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় নাশকতাকারীরা। এছাড়া গত ৫ আগষ্টের দিন এক মুহুর্তে আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস তছনছ করে ফেলে।



নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা ভয়ঙ্করভাবে ফুটে উঠেছে  বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সহিসংতার সময়। এই সহিসংতার সময় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের উপর যে তাণ্ডবগুলো পরিচালিত হয়েছে যেমন: নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর। কেননা জেলা এবং মহানগরের অধিকাংশ নেতাদের বাসস্থান এবং কর্মস্থল এর আশেপাশেই।



কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা তাদের নেতৃত্বে বা তাদের নির্দেশনায় তা প্রতিরোধ দূর থাক প্রতিবাদও করতে পারেনি। তাছাড়া গত সাড়ে ৭ মাস আওয়ামী লীগ কোমায় রয়েছে। তারা যে কিভাবে উঠে দাঁড়াবে সেই পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এমনকি আওয়ামী লীগের হাল কে ধরবে তা নিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন